বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০১০

একটি জীবন্ত পোষ্টার ...

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবচেয়ে স্মরণীয় নাম শহীদ নূর হোসেন।১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচার এর বিরুদ্ধে সংগঠিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলাকালে তিনি একটি জীবন্ত পোষ্টার হিসাবে মিছিলের সামনে ছিলেন কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় মিছিলের উপর গুলি।সেই গুলি এসে পড়ে নূর হোসেনের বুকে।বায়তুল মোকাররমের প্রধান ফটকের কাছে লুটিয়ে পড়ে সময়ের সাহসী সন্তান নূর হোসেন।ক্লাস নাইনে পড়া সুমন নামের এক কিশোর গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে রিকশায় তুলে নিয়েছিল হাসপাতালে নেয়ার জন্য রিকসা’টা গোলাপ শাহ মাজারের কাছে আসতেই পুলিশের কয়েকটা গাড়ি এসে ঘিরে ফেলে তাদের।কিশোর সুমনের কলার ধরে পুলিশরা তাকে টেনে রিকশা থেকে নামিয়ে নূর হোসেনকে টেনে হিচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।এরপর আর তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।গভীর রাতে আরো দুজন শহীদের সাথে জুরাইন কবরস্থানে মাটিচাপা দেয়া হয় নূর হোসেনকে। 

রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১০

এক নজরে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ

 


নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করলো বাংলাদেশ।সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ১৭৪ রান তুলেছিলেন সাকিব আল হাসানরা।কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে এ রানও অতিক্রম করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড, গুটিয়ে গেছে ১৭১ রানে।৩ রানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ,আর কিউইরা পেয়েছে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা!এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ ৪-০ ব্যবধানে হারালো নিউজিল্যান্ডকে।সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম বাবের বাংলাদেশ ওয়েস্টইন্ডিজের সাথে যৌথভাবে আট নম্বরে ।


শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০১০

বিপ্লবী কমরেড চে'গুয়েভার .....



১৯৬৭ সালে আজকের দিনটিতে নিরস্ত্র অবস্থায় নয়টি গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল বন্দী চে গুয়েভারাকে।সেই নয়টি গুলিতে মারা যায়নি চে’র মতবাদ।আজন্ম বিপ্লবী চে-স্মরণে এই আয়োজন -----

একলা আমি -------

 


¡ 


শুন্য ঘরে একলা আমি
তোমাই খুজিঁ তোমায় ভাবি
দূর গগনের নিলের মাঝে
তোমার চোখের সপ্ন আঁকি

মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০১০

অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে .....



নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ দুই দলের জন্যই বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেটি প্রথম ওয়ানডে খেলায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ রানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।প্রথমে ব্যাট করে সাকিব আল হাসানের অর্ধ-শতকের সুবাদে ৪৯,ওভার ৩ বলে সফরকারী বাংলাদেশ করে ১০ উইকেটে ২২৮ রান।জয়ের লক্ষ্য বাংলাদেশের বেঁধে দেয়া ২২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড।কিন্তু ১৫ ওভারে ৮৫ রান তোলার পর বৃষ্টি নামে।ফলে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য হয় ৩৭ ওভারে ২১০।নিউজিল্যান্ড তুলেছে ২০০ রান , ৮ উইকেটে,তখনি দেশের মাটিতে আবারও নিউজিল্যান্ডকে বধ করেছে বাংলাদেশ।ফলে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ তে এগিয়ে গেল।জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান ব্যাট হাতে করেছেন ৫১ বলে ৫৮ রান ও বল হাতে সাকিব আল-হাসান নিয়েছেন ৮ ওভার ৪১ রানে ৪ উইকেট ।

সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০১০

আজ শুরু বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ


 
নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ দুই দলের জন্যই বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেটি প্রথম ওয়ানডে দিয়ে শুরু হবে আজ।দ্বিতীয় ম্যাচ হবে ৮ অক্টোবর। দুই দিন বিরতি দিয়ে তৃতীয় ম্যাচটি হবে ১১ অক্টোবর।এছাড়া ১৪ এবং ১৭ অক্টোবর হবে চতুর্থ ও পঞ্চম ম্যাচ।সবগুলো ম্যাচই হবে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।বিশ্বকাপ সামনে রেখে মঙ্গলবার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম একদিনের ম্যাচ খেলতে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই দুই দলকেই নামতে হচ্ছে প্রথম একদিনের ম্যাচ খেলতে। কারন দু'টি প্রস্তুতি ম্যাচই ভেস্তে যায় বৃষ্টির কারণে মাঠ খেলার অনুপযোগী থাকায়।তবে তা নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নয় বাংলাদেশ শিবির। ভাবনা একটাই,তামিম ইকবালের দলে না থাকা। 

নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ দুই দলের জন্যই বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক এই সিরিজটা যখন হবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তখন ব্যস্ত বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিতে।


সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১০

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আবারও রাজনীতি !!

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আবারও রাজনীতি !!



একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের ইঙ্গিতের পর বিএনপি যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আবার রাজনীতি শুরু করলো ---- 
বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন গত কাল রোববার বলেছেন, "আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরকারের গঠিত একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।সরকার সেখানকার তদন্ত সংস্থা নিয়োগ দিয়েছে।দলীয় আইনজীবীরা তাতে নিয়োগ পেয়েছেন।সরকার যা চাইবে,এই সংস্থা তাই করবে।" 
তিনি আরো বলেছেন "তাই এরকম বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীর সুষ্ঠু বিচার করা কঠিন হবে।সেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে কি না,তা নিয়ে আমাদের আশঙ্কা রয়েছে"।

যুদ্ধাপরাধী বিচার সম্পর্কে গত ৮ মে বেগম জিয়ার দেয়া বক্তব্য ও বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের এই বক্তব্য অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল।এর অন্যথা হলে বর্তমানে বেগম জিয়া ও তার বিএনপি -কে মানুষ নতুন বেগম জিয়ার বিএনপি আবিষ্কার করত।

আসুন যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে জামাত ও বিএনপি-র রাজনীতি পিছন থেকে দেখে আসি ----
বিএনপি- এর রাজনীতির একটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য আছে বলে অনেকের ধারণা।তা হচ্ছে বিএনপি কোন একটি বিষয় নিয়ে কী মন্তব্য করবেন বা কী বলবে সে সম্পর্কে আগাম ধারণা করা যায়।যেমন বিএনপি যখন বিরোধী দলে থাকেন তখন তাদের একমাত্র প্রতিপক্ষ অবশ্যই আওয়ামী লীগ।নব্বই পরবর্তীকালে তাই হয়ে আসছে। বিরোধীদলীয় বিএনপি -র সব বক্তব্যের সুর হচ্ছে আওয়ামী লীগের হাতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়,তারা দেশটাকে বিদেশীদের(পড়ুন ভারত) কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে,বাংলাদেশকে তারা একটা তাঁবেদার এবং অকার্যকর রাষ্ট্র তৈরি করে ফেলছে,নীল-নকশা বাস্তবায়নের জন্যই তাদের বিদেশী প্রভুরা ক্ষমতায় বসিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন,পবিত্র ইসলাম ধর্ম বিপন্ন,অওয়ামী লীগ বর্তমানে বাকশাল কায়েমে ব্যস্ত,তাদের আর সময় দেয়া যায় না ইত্যাদি।আর যখন বিএনপি সরকারে থাকেন তখন বিএনপি বাংলাদেশের একমাত্র ত্রাতার ভূমিকায় হয়,বিএনপি বলে ---বিএনপি হচ্ছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক,তাদের হাতে ইসলাম নিরাপদ,তাদের আমলেই উন্নয়নের জোয়ারে বাংলাদেশ ভাসে। 

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যা করার পর প্রথম যে নতুন রাজনৈতিক দলটি আত্মপ্রকাশ করে তা বিএনপি(পূর্বের নাম জাগদল)।সামরিক শাসক থাকা অবস্থায় জিয়ার যখন খায়েস হলো তিনি একটি রাজনৈতিক দল করবেন তখন তিনি জাগদলের ছাতার নিচে সব স্বাধীনতাবিরোধী ও অতিবামপন্থীদের একত্রিত করলেন।এর আগে বঙ্গবন্ধু সরকারের শাসনামলে প্রণিত দালাল আইন বাতিল করে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এগার হাজার যুদ্ধাপরাধীদের তিনি কারামুক্ত করে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে একাত্তরের ঘাতকদের অবাধে বিচরণের ৰেত্র তৈরি করে দেন।একাত্তরে পাকিসত্মানী দখলদার বাহিনীর অন্যতম দোসর শাহ আজিজকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।চিহ্নিত ঘাতক আব্দুল আলীমের ঠাঁই হয় তার মন্ত্রিসভায়।একাত্তরের ঘাতক শিরোমণি ও পাকিস্তানী নাগরিক গোলাম আযমকে পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দেন জেনারল জিয়া।বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে জিয়া জামায়াতে ইসলামসহ অনান্য স্বাধীনতাবিরোধীদের বাংলাদেশে অবাধে রাজনীতি করার সুযোগও করে দেন।
জিয়ার মৃত্যুর পর তার আরব্ধ কাজ হাতে তুলে নেন বেগম জিয়া।তিনি গোলাম আযমকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বেগম জিয়া সরকার গঠন করেন।২০০১ সালে এসে বেগম জিয়া আর এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্যে নির্বাচনী জোট করেন এবং নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তার মন্ত্রিসভায় জামায়াতের দু'জন শীর্ষ নেতা নিজামী-মুজাহিদ,যারা একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী হিসাবে এখন কারাগারে ,তাদের দুটো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করেন।পরবর্তী পাঁচ বছরে প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জামায়াত ঘরানার ব্যক্তিদের পদায়ন করেন।অন্য দিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রাণশক্তি হচ্ছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী।সুতরাং এটি অনেকটা প্রত্যাশিত ছিল বেগম জিয়া কিছু সময় মৌনব্রত পালন করলেও শেষে এক সময় তিনি ও তার দল নির্ধারিত অবস্থানেই ফিরে যাবে এবং গত ৮ মে বেগম জিয়ার দেয়া বক্তব্য ও আজ বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য সম্প্রতি তাই হয়েছে। 

কি জামায়াতে ইসলামী,কি বিএনপি,- মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার নিয়ে অপপ্রচারে এসব দলের কোনওটিই পিছিয়ে নেই।তাই জামাত ও বিএনপি এখন তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩-এর বিরুদ্ধে।বাংলাদেশে সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এই যুদ্ধাপরাধী জামাতী দালালরা একটি ভুল করেছিল- বহু দলীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠার নামে যখন তারা ঘরোয়া রাজনীতির টেবিলে ধর্মবাদী রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে দেনদরবার করছিল আর সামরিক জান্তা জিয়াকে দিয়ে নানা ফরমান জারি করাচ্ছিল,তখন দালাল আইনটি বাতিল করার ফরমান জারি করাতেই তারা আহ্লাদিত হয়ে উঠেছিল এবং এই আইনটিকে তখন তারা ‘আন্তর্জাতিক আইন’ হিসেবেই হয়তো বিবেচনা করেছিল (এখন অবশ্য তারা আর ‘আন্তর্জাতিক’ বলে মানতে রাজি নন,বরং আইনটিকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত করার আবদার করে বেড়ানোই তাদের প্রধানতম মিশন এখন)।ফরমান জারি করে বাংলাদেশের তখন খোলনলচে পাল্টে দেয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু এ আইনকে নিষিদ্ধ করার ফরমান জারির কথা তাদের চিন্তায়ও আসেনি।এখনও তারা বলছে বটে,এ আইন করা হয়েছিল পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্যে,তাদের নিয়ে এসে বিচার করেন- কিন্তু তারা নিজেরাও জানে,এই আইনের আওতায় তারাও পড়ে,কেননা তারা তো মুক্তিযুদ্ধের সময় কেবল রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করেনি,বরং পাকিস্তানীদের সহায়তাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য হিসেবে কাজ করেছে।১৯৭১ সালে রাজাকারদের রেশন দেয়ার যে তালিকা পাওয়া গেছে,সেই তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নাম রয়েছে; আর শুধু নাম কেন, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সদস্য হিসেবে তাদের অনেক কুকীর্তিও রয়েছে।জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন হিসেবে এসব বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়নি,এসব বাহিনী গড়ে উঠেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তাকারী বাহিনী হিসেবে। সম্প্রতি তাই জামায়াতে ইসলামীর আক্রমণের মূল লক্ষ্য এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও মুক্তিযুদ্ধ ।

জামায়াতে ইসলামী এখন আর বলে না যে একাত্তরে ভুল করি নাই’ বরং বলে,একাত্তরে বাংলাদেশে কোন মুক্তিযুদ্ধ হয়নি,হয়েছে পাক-ভারত যুদ্ধ।আবার কখনো বলে আমরা এক পাকিস্তান চেয়েছিলাম,কিন্তু যুদ্ধাপরাধ করি নাই।’তারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বসেছে,- কেননা তারা নিজেরা খুব ভালো করেই জানে,তারাই বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের একমাত্র সমাবেশস্থল,একমাত্র মিলনমেলা।সবার মধ্যে নিজেদের নিয়ে খানিকটা আলোচনার পরিসরও খুজে পাওয়া এই গুলির কারন মনে হয়।জামায়াতে ইসলামীর এখন খুবই দুর্দিন।তারপরও তারা খোলা আকাশে তরবারি ঘোরাচ্ছে আর বলছে, যুদ্ধাপরাধ ইস্যু বাতাসে উড়ে যাবে!’ঠিক এইভাবে তারা ১৯৭১-এও কথা বলেছিল।শূন্য কলস বাজে বেশি, জামায়াতে ইসলামীর বাজনাও তাই বেশি, সব সময়েই বেশি।আর সে কারণেই তারা হয়তো এখনও বুঝতে পারছে না,গত ২৬ জুলাই থেকে বাংলাদেশের ইতিহাস নতুন এক পর্বে উন্নীত হয়েছে।যুদ্ধাপরাধের দায়ে এমন চারজন অভিযুক্তকে (পরে আরও একজনকে) কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে, যাদের যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে সংশয় বা সন্দেহ আছে এমন মানুষ বাংলাদেশে হাতে গোণা।মুষ্ঠিমেয় কিছু মানুষ যে তাদের যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে সংশয় ও সন্দেহ প্রকাশ করছে,তার কারণ এই যুদ্ধাপরাধীরা একটি রাজনৈতিক দলের নেতা বনে বসে আছে এবং যুদ্ধাপরাধীরা তারা ইস্যুটির রাজনীতিকরণ ঘটাচ্ছে।

অন্যদিকে ১৯৭৩-এর অ্যাক্টকে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি অনেক দিন ধরে একই ভাবে প্রচার করছে,কারো কারো কাছে মনে হতে পারে,এ অ্যাক্ট বোধহয় ধরে-বেধে মানুষকে প্রহসনের বিচার করার আইন।চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে অনেকেরই মৃত্যুদণ্ডের বিধানটি নিয়ে আপত্তি রয়েছে,চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধানটির বিরুদ্ধে প্রচারণার আড়ালে আসলে চেষ্টা চলছে ১৯৭৩-এর এই অ্যাক্টটি সম্পর্কেই জনমনে ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে দেয়ার। 

এই বিএনপি-র কারনে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধী দালালগুলো রাজনৈতিক দল করার অধিকার পেয়েছে এবং তাই গোপনীয়তারও কোনও বালাই নেই তাদের।গোলাম আযম,মতিউর রহমান নিজামী,আলী আহসান মুজাহিদ,কাদের মোল্লা আর দেলাওয়ার হোসেন সাঈয়েদী জাতীয় লোকরা তাদের যুদ্ধাপরাধী,স্বাধীনতাবিরোধী পরিচয় মুছে জামায়াত নেতা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে ।আর সে কারণেই সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী ও যুদ্ধাপরাধীদের বাচানোর জন্যে তারা এখন রূপকথার রাক্ষসদের মতো দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছে,হিংস্র দাঁত দেখাচ্ছে,কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৌড়াতে দৌড়াতে লম্বা জিভ বের করে এদের অক্কা পেতে হবে, তাদের প্রাণভোমরাকে এবার গহীন পুকুরের তলদেশ থেকে তুলে আনা হয়েছে,কোনও দৈত্যই আর পারবে না সেটিকে বাঁচিয়ে রাখতে।

৩৯ বছরে পরে যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হয়েছে- কিন্তু এখনো ইস্যুটিকে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি।তাই আমাদের শুনতে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের অনেক কথা এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আমাদের আর কি-ইবা আছে?তুলনায় যুদ্ধাপরাধীদের সৌভাগ্য আকাশসমান।কেননা ইতিহাস তাদের জন্যে যে-শাস্তি নির্ধারণ করে রেখেছে,তার মুখোমুখি তাদের হতে হচ্ছে অনেক-অনেক পরে। 

আমি যে-টুকু বুঝি বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধী বিচারের সপক্ষে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছেন,যে-সব ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচারের জন্যে অপেক্ষা করছেন তারা এটা বোঝেন যে,আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের এসব দিকগুলির ক্ষেত্রে পেশাদারি আইনজীবী ও ব্যারিস্টাররা ন্যায় বিচার ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্যে নিশ্চয়ই এসব নিয়ে অনেক ভেবেছেন। 

আমাদের বিশ্বাস যুদ্ধাপরাধীরা এবং তাদের পক্ষ হয়ে সক্রিয় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মী ও ব্যারিস্টার-আইনজীবীরা খুব অল্পদিনের মধ্যেই বুঝতে পারবেন,একটি ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যে তারা যে-পথ বেছে নিয়েছিলেন,যে-ধারণাগুলি প্রচার করছিলেন,তা মোটেও সঠিক ছিল না।

সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১০

বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে বড় ভূমিকম্প,আমাদের করণীয় কি?

বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে বড় ভূমিকম্প,আমাদের করণীয় কি?


ঈদের আগের রাত থেকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ৩ বার মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাষ।বিশেষজ্ঞদের মতামত হচ্ছে ঘন ঘন মাঝারি ভূমিকম্প বাংলাদেশে ৭ মাত্রার বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাষ অথবা খুব বড় মাত্রার ভূমিকম্পের আশংকা রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন,রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ধ্বংস লীলা ঘটবে৷ এধরনের ভূমিকম্পের ধ্বংস ক্ষমতা হিরোশিমার ৪৫০টি আণবিক বোমার সমান ।বিশেষজ্ঞরা বলছেন,বড়ধরনের ভূমিকম্পে ঢাকার ৮০ হাজার ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হবে।যদি তাই হয়,খুব বড় একটা অংশ ধ্বসে তাতে যে ব্যপারটা ঘটবে,তা হচ্ছে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপযস্ত হয়ে পড়বে।উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতও পরিবেশ থাকবে না।তাৎক্ষণিকভাবে মারা যাবে প্রায় দেড়লাখ মানুষ।ঢাকা ছাড়াও সিলেট ও চট্টগ্রাম রয়েছে ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে।ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবু নাঈম মো. শাহীদুল্লাহ জানান,সারাদেশে তাদের লোকবল ৬ হাজার৷ শুধু ফায়ার সার্ভিস কেন,দেশের কোন সংস্থাই ভুমিকম্পের মত প্রাকৃতিক বিপর্যয় এককভাবে মোকাবিলায় সক্ষম নয়৷ এরজন্য প্রয়োজন সর্বাত্মক প্রস্তুতি। 
আল্লাহ না করুন এরকম কিছু হয়.. কিন্তু যদি হয়েই যায় (যেমনটা ধারনা করা হচ্ছে) তাহলে এর থেকে সহজে বের হয়ে আসার উপায় খুঁজে দেখার এখনই সময়।তাই নিচে ভূমিকম্পে আমাদের করণীয় নিয়ে কিছু আলোচনা করলাম ----

ভূমিকম্পের ইতিহাস ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ—ভূমিকম্প-প্রবণতার দিক থেকে বাংলাদেশকে এমন তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে পড়েছে।অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি তৈরি, নিম্নমানের নির্মাণ-উপকরণের ব্যবহার, জাতীয় ভবন নির্মাণ আইন মেনে না চলা ইত্যাদি কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছে ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এসব অঞ্চলে।এছাড়া জনবহুল ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শহরের একটি। এ জন্য এ এলাকায় ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে তা রোধ করা সম্ভব।ঈদের আগের দিন এবং ঈদের দিন বাংলাদেশে পরপর বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হল। বাংলাদেশ বন্যা ও সাইক্লোন জাতীয় দূর্যোগ নিয়মিত হয় বিধায় আমরা সেগুলো মোকাবিলা করতে অভ্যস্থ এবং অভিজ্ঞতাও রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভুমিকম্প হলে তার সম্ভাব্য ক্ষতি সর্বনিম্ন রাখার জন্য আমাদের করণীয় কী?কোন কোন বিষয়ের প্রতি আমাদের সচেতন হতে হবে, কি কি বিষয়ের প্রতি আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে?ভুমিকম্প হওয়ার পরই বা কিভাবে তার ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠতে পারব সে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে আমি বিভিন্ন ওয়েব সাইট ঘুরে কিছু জিনিস এখানে শেয়ার করছি।

ভূমিকম্প কি :

প্রকৃতির নিয়মে ভূ-অভ্যন্তরে সৃষ্ট ভূআলোড়নের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো কোনো অংশ হঠাত্‌ কেপেঁ উঠলে তাকে আমরা বলি ভূমিকম্প।এধরনের কম্পন প্রচন্ড,মাঝারি বা মৃদু হতে পারে।পৃথিবীতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬ হাজার ভূমিকম্প হয়৷ কিন্তু এর বেশিরভাগই মৃদু ভূমিকম্প বলে সাধারণত আমরা অনুভব করি না।পৃথিবীর ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে (seisemic zone) বাংলাদেশ অবস্থিত বলে এদেশে মাঝে মাঝে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়৷ প্রায় একশ বছর আগে ১৮ঌ৭ সালে এদেশের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়।১ঌঌ৭ সালের ২১শে নভেম্বর চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের এলাকায় প্রচন্ড এক ভূমিকম্প আঘাত হানে৷ এছাড়া ১ঌঌঌ সালে জুলাই-আগস্ট মাসে মহেশখালী ও পার্শ্ববতী এলাকায় ৪ দফা ভূমিকম্প হয়।এসব ভূমিকম্পের ফলে বেশ কিছু মানুষ মারা যায় এবং অনেক বাড়িঘর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

ভূমিকম্প কেন হয় :

ভূবিজ্ঞানীগণ ভূমিকম্পের বিভিন্ন কারণ বা উত্‌স চিহ্নিত করেছেন।তারমধ্যে প্রধান হচ্ছে:
আন্দোলন বা টেকোনিক ভূমিকম্প ।
 আগ্নেয়গিরির কারণে ভূমিকম্প ।
মানুষ সৃষ্ট ভূমিকম্প ।

ভূমিকম্প পরিমাপ

যে স্থান বা জায়গায় ভূমিকম্পের উত্‌পত্তি হয় তাকে এর কেন্দ্র বলে এবং কেন্দ্র থেকে তা ঢেউ বা তরঙ্গের মতো চারদিকে প্রসারিত হয়।এধরনের তরঙ্গ সিসমোগ্রাফ (Seismograph) বা ভূকম্পন লিখনযন্ত্রের সাহায্যে মাপা হয়।সাধারণত অনেক ভূমিকম্প আমরা অনুভব করি না৷ ভূকম্পন যখন মাত্রাধিক হয় এবং ঘরবাড়ি, দালানকোঠা,গাছপালা ইত্যাদি যখন নড়তে থাকে তখন আমরা অনুভব করি।
ভূমিকম্পের মাত্রা দু'ভাবে পরিমাপ করা হয়-

তীব্রতা (Magnitude)
প্রচন্ডতা বা ব্যাপকতা (Intensity)

ভূমিকম্পের তীব্রতা সাধারণত রিখটার স্কেলে মাপা হয়৷ আর রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ এর উপরে উঠলে যথেষ্ট বিপদের আশন্কা রয়েছে বলে মনে করা হয়। 

রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা
৫-এর বেশি - বিপদের সম্ভবনা ।
৬-৬.ঌ - ব্যাপক ।
৭-৭.ঌ - ভয়াবহ ।
৮ বা এর বেশি -অত্যন্ত ভয়াবহ । 

আসুন প্রথমে জেনে নেই ভূমিকম্প হলে কি কি বিপদ হতে পারে? 

 সম্পুর্ণ বা আংশিকভাবে দালান-কোঠা বিধস্ত হওয়া (দেয়াল, ছাঁদ ধ্বসে পড়া ইত্যাদি)।
রাস্তাঘাট ঢেবে যাওয়া, সেতু বিধস্ত হওয়া। ফলে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হতে পারে। 
 পাওয়ার লাইন বিধস্ত হওয়া । 
আগুন তৈরীর ফলে এর দ্বারা ক্ষতি। 
প্যানিক সৃস্টি হওয়ার mob এর মত পরিস্থিতি।
 অন্যান্য। 

ভূমিকম্পের সময়ে সতর্কতা 

 ভূমিকম্প হলে সর্ব প্রথম যেটা করণীয় সেটা হল-মাথা ঠান্ডা রাখা/স্থির থাকা/উত্তেজিত না হওয়া। এটা জরুরী এই জন্য যে, উত্তেজিত হলে করণীয় বিষয় কী তা ঠিক করা কঠিন হবে। ভয় দ্রুত সংক্রামক বলে বিপদের মূহূর্তে একজনের সামান্য কথা/কাজ দ্রুত অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে প্যানিকের মত পরিস্থিতি সৃস্টি করতে পারে। 
 ভূমিকম্পের সময় আপনি যদি বাসা/অফিস অর্থাৎ দালান-কোঠার মধ্যে অবস্থান করেন, তবে নিচের বিষয়গুলো মানার চেস্টা করুন।
দ্রুত বাসা থেকে বের হওয়ার চেস্টা না করে বরং দ্রুত ডাইনিং/পড়ার টেবিল/খাটের নিচে আশ্রয় নিন। সেখানে হাটুকে কোলের কাছে এনে মাথা গোড়ালীর উপর রেখে হাত মাথার পিছনে রেখে অবস্থান করুন।অনেকটা নিচের ছবির মত। 
যদি ডাইনিং/পড়ার টেবিল/খাট না থাকে তবে জানালা হতে দূরে ঘরের দেয়ালের কর্নারে বা এমন এক জায়গা যেখানে বুক শেলফ/ আসবাপত্র ইত্যাদি কাত হয়ে না পড়তে পারে, সেখানে অবস্থান করুন। 
জানালার কাচঁ/ঘরের আয়না বা এই জাতীয় জিনিস থেকে দূরে থাকার চেস্টা করুন।
জানালার কাচঁ/ঘরের আয়না বা এই জাতীয় জিনিস বা হঠাৎ করে ছুটে আসা নানান বস্তু হতে আপনার মুখ/মাথাকে রক্ষা করার জন্য পারলে বালিশ/কম্বল/পত্রিকা/ছোট বাক্স দিয়ে মুখমন্ডলকে আড়াল করুন।
কখনোই তাড়াহুড়ো করে বাসা হতে বের হতে যাবেন না। সিড়িঁ বিধস্ত হতে পারে। 
বাসা হতে দ্রুত বের হওয়ার exit থাকলে সেটা ব্যবহার করুন। কখনোই লিফট ব্যবহার করবেন না কেননা বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে লিফট বন্ধ হয়ে আপনি সেখানে আটকা পড়তে পারেন।
সম্ভব হলে গ্যাসের চুলা নিভিয়ে দিন।
আপনি যদি বাইরে অবস্থান করেন, তবে দ্রুত ফাকাঁ স্থান দেখে সেখানে অবস্থান করুন যতক্ষন না কম্পন না থামে। চেস্টা করুন বিল্ডিং/ গাছপালা/ বিদ্যুৎ – এর খুটিঁ/লাইট পোস্ট হতে দূরে থাকতে। কম্পনের সময় এক জায়গাতে বসে হাটুকে কোলের কাছে এনে মাথা গোড়ালীর উপর রেখে হাত মাথার পিছনে রেখে অবস্থান করুন।
আপনি যদি গাড়ি চালানো অবস্থায় থাকেন, তবে সাবধানতার সাথে গাড়ি থামিয়ে দ্রুত ফাকাঁ স্থান দেখে গাড়িতেই অবস্থান করুন। চেস্টা করুন বিল্ডিং/ গাছপালা/ বিদ্যুৎ – এর খুটিঁ/লাইট পোস্ট হতে দূরে থাকতে। 

ভূমিকম্পের পরপরই করণীয়ঃ 

 সুস্থির থাকুন। উত্তেজিত না হয়ে আশেপাশের অন্যান্য দেরকে অভয় দিন।
 আগুন তৈরী করতে পারে এমন কিছু থেকে সরাসরি বিরত থাকুন (যেমন-ম্যাচ জ্বালানো/সিগারেট ধরানো/অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালু করা/গ্যাসের চুলা জ্বালানো)। বরং এই জাতীয় কিছু কোথাও থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করুন বা নিভিয়ে দিন ।
সাবধানতার সহিত চলাফেরা করুন। বিশেষ করে ভাঙ্গা কাচেঁর টুকরা বা এই জাতীয় জিনিস হতে হাত, পা ইত্যাদিকে রক্ষা করুন।
নিজে সুস্থ থাকলে আশেপাশে কারো সাহায্য লাগলে হাত বাড়িয়ে দিন।
 অনেক সময় কয়েকটি কম্পন কিছুক্ষন পরপর অনুভূত হতে পারে। তাই প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠার পরপরই নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন।
সকল ক্ষেত্রেই শিশু ও বয়স্কদেরকে অগ্রাধিকার দিন।

ভূমিকম্প হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে করণীয়ঃ 

 বৈদ্যুতিক/ গ্যাস চালিত সব ধুরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহারে বিরত থাকুন।
 আহত লোকদের যতটুকু সম্ভব সাহায্য করুন। কেউ আটকা পড়লে চেস্টা করুন উদ্ধারের। না পারলে তাকে বা তাদেরকে পানি ও খাবার দিন এবং অভয় দিন। 
ভূমিকম্পের ফলে after shocks/effect যেমন সুনামি হতে পারে। সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্ততি নিন।
 রেডিও থাকলে দূর্যোগ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য পাবার জন্য সেটি চালু রাখুন। টেলিফোন/মোবাইল চালু থাকলে প্রয়োজনীয় সাহায্য চাওয়ার জন্য এবং ক্ষয়ক্ষতি রিপোর্ট করার জন্য সেটি ব্যবহার করুন।
একজায়গাতে/ রাস্তাতে জড়ো না হয়ে বরং সড়কপথকে ফাকাঁ রাখুন যাতে জরুরী সাহায্যের যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারে।

সরকারী ভাবে করণীয়ঃ 

যেহেতু ভূমিকম্পের ফলে মূল ক্ষতি হয় দালান-কোঠা বিধস্ত হওয়ার ফলে। তাই সকল ক্ষেত্রে দালান-কোঠা তৈরীর সময় বিল্ডিং কোড মানার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগাম নেয়া ।
 ভূমিকম্পসহ যেকোন দূর্যোগেই হাসপাতাল/ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র... ইত্যাদি স্থাপনাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই ধরনের স্থাপনাগুলোতে ভূমিকম্প প্রতিরোধী কাঠামো সংযোগ করা (পূরাতনগুলোর ক্ষেত্রে) অথবা নতুন তৈরীর ক্ষেত্রে ভূমিকম্প প্রতিরোধী কাঠামো সংযোগসহ তৈরী করা।

আরোকটি গাইডলাইন

ভূমিকম্পের প্রথম ঝাঁকুনির সঙ্গে সঙ্গে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন।
 ঘরে হেলমেট থাকলে মাথায় পরে নিন, অন্যদেরও পরতে বলুন।
 ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সম্ভব হলে আশপাশের সবাইকে বের হয়ে যেতে বলুন।
দ্রুত বৈদ্যুতিক ও গ্যাসের সুইচ বন্ধ করে দিন।
কোনো কিছু সঙ্গে নেওয়ার জন্য অযথা সময় নষ্ট করবেন না।
 যদি ঘর থেকে বের হওয়া না যায়, সে ক্ষেত্রে ইটের গাঁথুনি দেওয়া পাকা ঘর হলে ঘরের কোণে এবং কলাম ও বিমের তৈরি ভবন হলে কলামের গোড়ায় আশ্রয় নিন।
আধাপাকা বা টিন দিয়ে তৈরি ঘর থেকে বের হতে না পারলে শক্ত খাট বা চৌকির নিচে আশ্রয় নিন।
ভূমিকম্প রাতে হলে কিংবা দ্রুত বের হতে না পারলে সজাগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয় নিন ঘরের কোণে, কলামের গোড়ায় অথবা শক্ত খাট বা টেবিলের নিচে।
গাড়িতে থাকলে যথাসম্ভব নিরাপদ স্থানে থাকুন। কখনো সেতুর ওপর গাড়ি থামাবেন না।
 এ সময় লিফট ব্যবহার করবেন না।
 যদি বহুতল বাড়ির ওপরের দিকে কোনো তলায় আটকা পড়েন, বেরিয়ে আসার কোনো পথই না থাকে, তবে সাহস হারাবেন না। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। ভেবে দেখুন, উদ্ধারকারী পর্যন্ত আপনার চিত্কার পৌঁছাবে কি না।
 বিম, দেয়াল, কংক্রিটের ছাদ ইত্যাদির মধ্যে আপনার শরীরের কোনো অংশ চাপা পড়লে, বের হওয়ার সুযোগ যদি না-ই থাকে, তবে বেশি নড়াচড়া করবেন না। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
ধ্বংসস্তূপে আটকে গেলে সাহস হারাবেন না। যেকোনো উত্তেজনা ও ভয় আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ভূমিকম্প-প্রতিরোধী বাড়ি 

যাঁরা এখনো বাড়ি তৈরি করেননি, পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা চাইলেই ভূমিকম্প-প্রতিরোধী বাড়ি বানাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে:


প্রথমেই মাটি পরীক্ষা করে নিতে হবে। ওই জায়গায় মাটি দেবে যাওয়ার প্রবণতা আছে কি না দেখে নিন। খাল-বিল-পুকুর-ডোবা ভরাট করে বাড়ি বানাতে চাইলে মাটি ভালোভাবে দুরমুস করে নিন।
বাড়ি এমনভাবে তৈরি করুন, যাতে রোমান সংখ্যায় VII (৭) মাত্রার ইনটেনসিটি (তীব্রতা) সহনশীল হয়।
 দক্ষ প্রকৌশলী দিয়ে নকশা তৈরি ও তদারক করাতে হবে।
 ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ আইন অনুযায়ী ভূমিকম্পের ধাক্কায় সহনশীল হবে এমন রড ব্যবহার করতে হবে।
ভবনের উচ্চতা ও ভার বহনের হিসাব অনুযায়ী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করুন।
সিমেন্ট, রড, বালু ভালো মানের ও পরীক্ষিত হতে হবে।
ভিত্তিপ্রস্তরে গ্রেট বিম কলামের সংযোগস্থলে প্রয়োজনীয় কোড অনুযায়ী রড দিতে হবে।
কলামের রডে বাঁধনগুলোর শেষ মাথা ১৩৫ ডিগ্রি হতে হবে এবং বাঁধনগুলোর দূরত্ব অন্য জায়গার চেয়ে অর্ধেক হবে। অর্থাত্ ফাঁকা কম হবে।
বিম ও কলামের সংযোগস্থলে জোড়া লাগানো যাবে না। নতুন-পুরোনো সংযোগগুলো কলামের মাঝামাঝি যেন হয় এমনভাবে রড কাটতে হবে। সংযোগগুলো ঝালাই করা যেতে পারে।
বহুতল ভবনে কংক্রিটের তৈরি কোরওয়াল (লিফটের দেয়াল) প্রয়োজনমতো থাকা উচিত।
 কার পার্কিং বিম ও কলাম বরাবর বাইরের দেয়াল প্রয়োজনমতো থাকা উচিত।
 মাটির ঘর হলে শক্তভাবে নির্মাণ করুন।
আপনার বাড়িটি পাশের বাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে নির্মাণ করুন।
বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন, গ্যাসলাইন নিরাপদ ও সতর্কভাবে স্থাপন করুন, যাতে তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ করা যায়।
ঘরে একাধিক দরজা রাখুন, যাতে বিপদের সময় দ্রুত বের হওয়া যায়।



পুরোনো বাড়ির ক্ষেত্রে করণীয়ঃ 

বাড়ির মালিকদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। একটু সচেতন হলেই আপনার বাড়িটি এখনো ভূমিকম্পরোধী করা সম্ভব। এর জন্য বাড়তি কিছু অর্থ ব্যয় করতে হবে।
পুরোনো ঘরের খুঁটি মেরামত করুন।
সে জন্য বাড়ির কলামগুলো শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনমতো কলামের আকৃতি বাড়াতে হবে। অতিরিক্ত টানা রড বা তারের জালি (ফেরোসিমেন্ট পদ্ধতি) কলামকে চিপিং করে ফেরোসিমেন্ট ব্যবহার করা যায়।
প্রয়োজনে নতুন করে মাটি পরীক্ষা করতে হবে।
 প্রতিটি ঘরের কোনায় খাড়াভাবে অতিরিক্ত কংক্রিটের কলাম ইস্পাতের রডসহ নির্মাণ করা যায়। টানা পদ্ধতি না থাকলে নতুন করে দেওয়া যায়।
 দেয়াল মজবুত করার জন্য দরজা-জানালার দুই দিকে খাড়া রড গাঁথতে হবে। ইটের দেয়ালের মাঝখানে অতিরিক্ত রড দিয়ে দিতে হবে।
কাঁচা বাড়িঘর, বাঁশের ঘর হলে বাঁশের বেড়ার দুপাশে মাটি বা চুন-সুরকির প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে, তা সাশ্রয়ীও বটে।
 খাট ও টেবিল শক্তভাবে তৈরি কি না পরীক্ষা করুন। ভূমিকম্পের সময় এসবের নিচে আশ্রয় নেওয়া যায়।
বাড়ির বীমা করা না থাকলে করিয়ে রাখুন।


ভূমিকম্প বিষয়ক অনেকগুলো প্রশ্ন এবং উত্তরের সন্ধান পেলাম-

এখানে ভূমিকম্প বিষয়ক অনেকগুলো প্রশ্ন এবং উত্তর