বাংলার স্বাধীনতা

ইতিহাস বিস্মৃতির উদাহরণ পৃথিবীর আর কোথাও নাই। ব্যক্তিস্বার্থেও এ দেশে চলেছে ইতিহাস বিকৃতির পালা । বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছেনৌ খুব দরকার তাই আমার এই পোষ্ট দেয়া ।

আমরা স্বাধীনতার ৩৯ এ পা দিয়েছি তবু স্বাধীনতা অর্জনের পুরো তৃপ্তিটুকু আমরা আজও ঠিকমত ভোগ করতে পারি নি , তা কিছু যুদ্ধপরাধীদের করনে ।৭১ এর যুদ্ধের সময় তারা দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যে কর্মতৎপরতা চালিয়েছে তা জাতি আজও ভুলে যায় নি ।
 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল ১৯৭১ সালে সংঘটিত তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগ্রাম, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর বুকে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ এই যুদ্ধের সূচনা ঘটে, যখন পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পঁচিশে মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা ঢাকায় অজস্র সাধারণ নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশ হত্যা করে। গ্রেফতার করা হয় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাপ্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান বাঙ্গালীর প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গ্রেফতারের পূর্বে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সারাদেশে শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস, ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, সামরিক বাহিনীর বাঙ্গালী সদস্য এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ দেশকে মুক্ত করতে গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে মুক্তিবাহিনী সারাদেশে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সাহায্য লাভ করে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যখন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র তখন পাকিস্তান পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরিভাবে জড়িয়ে পড়ে।শেষপর্যন্ত মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমনে পাকিস্তানের দখলদারী বাহিনীর পতন ত্বরান্বিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও যৌথবাহিনীর উদ্যোগে চাপে পড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীরা প্রাণ রক্ষার তাগিদে জেনারেল নিয়াজীর মাধ্যমে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে আত্মসর্মপণ করে। যা পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। এত বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে আত্মসর্মপণ করার ইতিহাস এর আগে ছিল না। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর মাত্র ৯ মাসের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের যা আরও একটি ইতিহাস। এত অল্প সময়ের মধ্যে এর আগে কোন দেশ যুদ্ধে জয়ী হয় নি। 

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন রকম পরিসংখ্যান রয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকার ,আলবদর আর আলশামস ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল। সাড়ে চার লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে। 

শেষ পর্যন্ত ১০৮ টি দেশ বাঙলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ যদ্ধে যারা সবকিছু বিসর্জন দিয়ে দেশটাকে শএুমুক্ত করেছে,এদেশবাসী তাদেরকে বীরশ্রেষ্ঠ (৭),বীরউত্তম(৬৮),বীরবিক্রম(১৭৫),বীরপ্রতিক(৪২৬) মর্যাদায় তাদের স্মরনীয় করে রেখেছে।

আমাদের বাঙলাদেশ সবুজাভ সৌন্দর্যের এক প্রানবন্ত প্রকাশ। সুদীর্ঘ সংগ্রামের বনার্ঢ্য ঐতিহ্য নিয়ে সগর্বে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মানচিত্রে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে আর ২ লক্ষ মা বোনের সতীত্ব আমাদের পতাকার দৃপ্ত অহংকার। যে সব মৃত্যুঞ্জয়ী বীরের সুমহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা আর সে জন্যই তাদেরকে জানাই শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের ভিতরে লুকিয়ে থাকা সবটুকু ভালবাসা। 

বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের অহংকার। যুগ যুগ ধরে আমরা তাদের গৌরব গাথা স্মরণ করে তাদের নামে গাইব। আর বাংলার সবুজ জারজ, কুলাঙ্গার, আল শামসের সদস্যদের নামে থুথু ছিটাব। পাকবাহিনীর দোসররা বাংলা মায়ের কলঙ্ক, যুগ যুগ ধরে বাঙালী জাতি তাদের নামের ওপর ঘৃণার বারুদ ছড়াবে, এটাই হোক বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের অভিপ্রকাশ। 

তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অনেক বই ও নেট থেকে সংগ্রহ করা ।