বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০

অ্যানথ্রাক্স সম্পর্কে নিজে জানুন ও সতর্ক থাকুন এবং অন্যকে জানান ও সতর্ক করুন .......


 

অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ গবাদিপ্রাণির একটি মারাত্নক সংক্রামক রোগ,অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ গবাদিপ্রাণির একটি মারাত্নক সংক্রামক রোগ।গবাদিপ্রাণি থেকে এ রোগে মানুষও আক্রান্ত হয়।এ রোগের জীবানু দ্বারা সংক্রামিত খাদ্য খেয়ে সাধারণতঃ প্রাণি আক্রান্ত হয়।বিশেষকরে বর্ষাকালে নদীনালার পানি ও জলাবদ্ধ জায়গার ঘাস খেয়ে গবাদি প্রাণি বেশী আক্রান্ত হয়।এ রোগের জীবানু দ্বারা সংক্রামিত খাদ্য খেয়ে সাধারণতঃ প্রাণি আক্রান্ত হয়।বিশেষকরে বর্ষাকালে নদীনালার পানি ও জলাবদ্ধ জায়গার ঘাস খেয়ে গবাদি প্রাণি বেশী আক্রান্ত হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, 'আক্রান্ত এলাকা থেকে অসুস্থ পশু অন্যত্র আনা-নেওয়া বন্ধ করা না গেলে এবং যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই করা হলে রোগটির বিস্তার বন্ধ করা যাবে না।' 

সারা দেশে এখন অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক বিরাজ করছে।সরকারি হিসাবে গত ১৮ অগাস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত পাঁচ জেলায় অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত ৩৩৭ জন রোগী সনাক্ত হয়েছে।এর মধ্যে সিরাজগঞ্জে ২০৬ জন,পাবনায় ৫৭ জন, কুষ্টিয়ায় ৪৬ জন, টাঙ্গাইলে ১৪ জন ও মেহেরপুরে ১৪ জন। 

অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর মাংস রান্নার পরও তাতে রোগটির জীবাণু থাকে বলেচিকিৎসা বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন আক্রান্ত পশুর মাংস রান্না করে খেলেও তা থেকে সংক্রমণ হতে পারে। কারণ আগুনেও এই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয় না।

চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পশুটি ৪৮ ঘণ্টার বেশি বাঁচে না। তাই উচিত, কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করে ফেলা এবং অসুস্থ পশুর পাশাপাশি সুস্থ পশুরও চিকিৎসা করা।

উপসর্গ ও সতর্কতা

দেশের প্রবীণ চিকিৎসা বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন,'অ্যানথ্রাক্স রোধ করতে হলে পরীক্ষা করে পশু জবাই নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক পয়েন্টে পশু পরীক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা রোগটি অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।'
অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান ও আইইডিসিআরের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা,মুশতাক হোসেন জানান, অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত প্রাণীর চিকিৎসায় ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তবে আক্রান্ত হওয়ার আগে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে প্রাণিটি নিরাপদ থাকবে। 
তাঁদের মতে,

লক্ষণঃ

১। অত্যধিক জ্বর হয় (১০৩ - ১০৭ ফাঃ)
২। শ্বাসকষ্ট এবং দাঁত কটকট করে।
৩। শরীরের লোম খাড়া হয়ে উঠে।
৪। আক্রান্ত প্রাণি মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে,প্রাণিকে কিছুটা উত্তেজিত দেখায়।
৫। প্রাণি নিস্তেজ হয়ে শুয়ে পড়ে।
৬। খিঁচুনি হয় ও অবশেষে প্রাণি মারা যায়।
৭। মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে বা পরে প্রাণির নাক,মুখ,মলদ্বার ইত্যাদি দিয়ে কালো রক্ত নির্গত হয়।
৮। অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশের আগেই প্রাণির মৃত্যু ঘটে।

প্রতিকারঃ

১। সুসহ গবাদিপ্রাণিকে নিয়মিত বছরে একবার তড়কা রোগের টিকা দিতে হবে।
২। প্রাণির ঘর সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
৩। মৃত প্রাণির দেহ,গোবর,লালা,প্রস্রাব,রক্ত ইত্যাদিসহ গভীর গর্তে পুঁতে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৪। কোন প্রাণি আক্রান্ত হলে তাকে পৃথক করে চিকিৎসা ব্যবসহা করতে হবে।
৫। মৃত প্রাণির চামড়া ছাড়ানো যাবে না।
৬। নদীনালার পানি ও নীচু এলাকার ঘাস খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

অ্যানথ্র্যাক্স রোগে আক্রান্ত রোগীদের কিছু ছবি :
 
 


অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ মানুষের মধ্যে ছড়ানো বা মানুষ আক্রান্ত হবার লক্ষনসমূহঃ

অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ আক্রান্ত গবাদিপ্রাণি বিশেষ করে গরু বেসিলাস অ্যানথ্রাক্স দ্বারা আক্রান্ত হলে সেই গবাদিপ্রাণিকে যারা জবাই করবেন,যারা মাংস কাটবেন,যারা মাংস ধোয়ামোছা করবেন,যারা চামড়া ছাড়াবেন এবং খাবেন প্রত্যেকেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। 

লক্ষণসমুহঃ 

১। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে জ্বর উঠবে।
২। চামড়ায় প্রথমে লালচে দাগ হবে এবং উক্ত সহান চুলকাবে।
৩। পরবর্তীতে আক্রান্ত সহানে প্রায় দেড় দুই ইঞ্চি পরিমানে ফোসকা উঠবে,ফোসকার মাঝখানে পচনের মতো কালচে হবে।
৪। ফোসকার সহানে পরে ব্যাথামুক্ত ঘা হবে। আক্রান্ত ব্যক্তি সঠিকভাবে চিকিৎসা না নিলে রোগী মারা যেতে পারে।

সতর্কতাঃ

অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগে আক্রান্ত গবাদিপ্রাণি যবাই করা ,চামড়া ছাড়ানো বা মাংস কাটা,ধোয়ামোছা বা মাংস খাওয়া যাবে না।এনথ্রাক্স বা তড়কা রোগে আক্রান্ত জবাই করা গরুর রক্ত,মাংস, হাড়, নাড়িভুঁড়ি ও মুখের লালার সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যে এই রোগ ছড়াচ্ছে।আক্রান্ত রোগীর ত্বকে ঘা,ক্ষত বা বিষফোঁড়া দেখা দেয়ার সঙ্গে জ্বর হতে পারে।এই রোগের চিকিৎসা সহজ এবং একশত ভাগ সফল। তবে এনথ্রাক্সের সঠিক চিকিৎসা না হলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। তিনি বলেন, এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় গবাদি পশুকে এনথ্রাক্স বা তড়কা রোগের টিকা দেয়া।আক্রান্ত গরু জবাই করা যাবে না।মৃত গরু মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। 


তথ্য সূত্র:নেট থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন দৈনিক বাংলা পত্রিকার সংবাদ।