বন্ধ হোক শিশু শ্রম

শিশুশ্রম মানবসভ্যতার জন্য একটি কলঙ্ক এবং অভিশাপ।আজ বাংলাদেশ সরকার জাতীয় শিশু নীতি ২০১০-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে।এই নীতি অনুযায়ী ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের সার্বক্ষণিক শিশুশ্রমে নিয়োগ করা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার।প্রস্তাবিত খসড়ায় সবরকম রাজনৈতিক কর্মকান্ডে শিশুদের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এই খসড়া নীতিতে শিশুদের পুষ্টি, কন্যাশিশুর অধিকার ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সুযোগ সুবিধাসহ সার্বিক দিকগুলো বিবেচনায় আনা হয়েছে।
এতে ১৮ বছরের নিচে প্রত্যেককে শিশু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।পাশাপাশি ১৪ বছরের নিচে কাউকে কোনো সার্বক্ষণিক কাজে নিয়োগ না করার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন নীতিতে শিশু অবস্থাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।এগুলো হচ্ছে শিশু অবস্থা এবং বয়ঃসন্ধিকাল।
পিতা-মাতা,আইনগত অভিভাবকের লিঙ্গগত,ধর্মীয়,জাতিগত,পেশাগত,সামাজিক,আঞ্চলিক ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নির্বিশেষে ১৮ বছরের নিচে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষেত্রে এ নীতি বৈষম্যহীনভাবে প্রযোজ্য হবে।বর্তমান নীতিতে এটা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রজোয্য।
আগামী ১৫ দিন ওয়েবসাইট বা লিখিতভাবে এ খসড়ার ব্যাপারে মতামত নেওয়া হবে।এরপরই এটি চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে তা চূড়ান্ত হবে।
যে ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-
http://www.mowca.gov.bd/
http://www.mspvaw.org.bd/
এর আগে ১৯৯৪ সালে প্রণীত একটি জাতীয় শিশুনীতি ছিল সেটিকে যুগোপযোগী করার জন্য নতুন নীতিমালা তৈরির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।১৯৯৪ সালের শিশুনীতিতে ১৪ বছরের কম বয়সীদের শিশু বলা হতো ।
সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে দেশে শুন্য থেকে ১৭ বছর বয়সের শিশুর সংখ্যা ৬ কোটি ৭৭ লাখের বেশী।এদের মধ্যে প্রায় ৩৫ লাখ শিশু নানা ধরণের কাজের সঙ্গে জড়িত।মোট শিশু শ্রমিকদের মধ্যে ১৩ লাখ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে।এদের কাজ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক কোন আইনের তোয়াক্কা করে না।অন্ধকারে আবদ্ধ তাদের সোনালী ভবিষ্যত।যে বয়সে তাদের খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা। ঠিক সে বয়সে শুধু পিতা-মাতার দারিদ্রের কারণে ওরা শিশু শ্রমিক করছে ।
বাংলাদেশে নগরায়ণের কারণে শহুরে জীবনযাপন ব্যয়বহুল হয়ে ওঠার কারণে দরিদ্র শিশুরাও পরিবারকে সাহায্যস্বরূপ কাজ করতে বাধ্য হতে থাকে।ফলে সস্তা পারিশ্রমিকে হালকা ও ভারী কাজকর্মে শিশুশ্রম একটি সংস্কৃতিতে দাঁড়িয়ে যায় কালক্রমে।সেই সংস্কৃতির সঙ্গে গ্রামেগঞ্জে কর্মরত শিশুদের শ্রমের প্রকৃতি ও ধরণ এক নয়।অন্ততপে গ্রামের ধানীক্ষেত,কৃষিখামারে কর্মরত শিশুদের তুলনায় শহর ও উপশহরের নোংরা পরিবেশের কালকারখানাতে কর্মরত শিশুশ্রমিকদের স্বাস্থ্যও শারীরিক প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
শিশুশ্রম যত দ্রুত বন্ধ হবে ততই সামাজিক সমস্যা দূরীকরণ সম্ভবপর হবে,কেননা এই শিশুরাই অযত্ন,অবহেলায় পতিত হয়ে সস্তাশ্রমের বিনিময়ে এদের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে বহু বিপথগামী এমনকি সন্ত্রাসী যারা সমাজকে শুধু কলুষিতই করে না, অপরাধ সংস্থা গড়ে তোলে জাতীয়,সামাজিক উন্নতি ও নিরাপত্তারক্ষেত্রে হুমকি হিসেবে দেখা দিয়ে থাকে।
বিগত সময়ে বার বার সরকারিভাবে শিশুশ্রম বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হলেও তা বন্ধ হয়নি।এই আইন যাতে বাস্তবায়নয় এবং এর সঠিক প্রয়োগ হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে সরকারকেই ।
এই আইন সরকার সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করবে এই আশা করি।




Dhaka Time
0 মন্তব্য:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন