রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১০

আজ শাহ আবদুল করিমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ শাহ আবদুল করিমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

 

গাড়ী চলে না চলে না', বসন্ত বাতাসে সইগো বসন্ত বাতাসে' এরকম অসংখ্য গানের রচয়িতা, বহু জনপ্রিয় গানের বাণীর এই মহান রচক ও সুরস্রষ্টা ,একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের প্রথম মৃত্যুবাষির্কী আজ। 

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম মৃত্যু বরণ করেন।সেই দিন শনিবার সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে সিলেটের নূর জাহান ক্লিনিকে ৯১ বছর বয়সে শাহ আবদুল করিমের জীবনগাড়ী থেমে যায়। 


বাউল গানের জীবন্ত কিংবদন্তী শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।বাউল শাহ আবদুল করিমের সংগীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই।বাউল সম্রাটের প্রেরণা তার স্ত্রী আফতাবুন্নেসা। তিনি তাকে আদর করে ডাকতেন ‘সরলা’। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তিনি গানে কথা বলে গেছেন সকল অন্যায়,অবিচার,কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে।


স্বল্পশিক্ষিত বাউল শাহ আব্দুল করিম এ প্রায় দেড় সহস্রাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন। কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। এ সময়ের বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন মৃত্যু আগে।


বাউল শাহ আব্দুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। বাংলা একাডেমি তার দশটি গানের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে।এছাড়া দ্বিতীয় সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে এই বাউল সম্রাটকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।এছাড়াও ২০০০ সালে কথা সাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরি পদক পান। বাউল সাধক শাহ আবদুল মৃত্যু আগে জীবনের একটি বড় অংশই তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে দারিদ্রতার সাথে। 

সুরস্রষ্টা শাহ আবদুল করিম-এর জীবন, সঙ্গীত ও সময় নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র .....
প্রামাণ্যচিত্র পর্ব -১
প্রামাণ্যচিত্র পর্ব-২ 
প্রামাণ্যচিত্র পর্ব -৩
প্রামাণ্যচিত্র পর্ব - ৪
প্রামাণ্যচিত্র পর্ব-৫ 
প্রামাণ্যচিত্র পর্ব-৬


শাহ আবদুল করিমের জনপ্রিয় কিছু গান

বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
গাড়ি চলে না
আমি কূলহারা কলঙ্কিনী
কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া
কোন মেস্তরি নাও বানাইছে
কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু
বসন্ত বাতাসে সইগো
আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু
মহাজনে বানাইয়াছে ময়ুরপংখী নাও
আমি তোমার কলের গাড়ি
সখী কুঞ্জ সাজাও গো
জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে
মানুষ হয়ে তালাশ করলে
আমি বাংলা মায়ের ছেলে

গাড়ী চলে না চলে না

মায়া

আমি কূল হারা কলঙ্কিনী
বসন্ত বাতাসে সইগো বসন্ত বাতাসে

তাঁর কণ্ঠে..একটি গান 


দুঃখের কখা হল তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী অনেকটা নিরবেই পালিত হচ্ছে ।শুধু তাঁর পারিবারিক উদ্যোগে মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে । 


বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের প্রথম মৃত্যুবাষির্কীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি। ।