প্রবাসেও ঈদ আসে

ঈদের চাঁদ
স্বদেশের মাটিতে ঈদে হাজারও রকম কেনা কেটার ব্যস্ততা থাকলেও প্রবাসে প্রবাসীদের মধ্যে এইরকম কোন ব্যস্ততাই নেই।ব্যস্ততা আছে সেটা কেনা কেটার নয় সেই ব্যস্ততা কাজ আর পড়াশোনার ব্যস্ততা।সবাই ব্যস্ত শুধু কাজ আর পড়াশোনা নিয়ে এখানে ঈদের আনন্দে মেতে উঠার সুযোগ কারোরই নেই।খুব কম প্রবাসীই আছে যাদের সোভাগ্য হয় ঈদের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার।কারো কারো ঈদের নামাজ আদায় করার সোভাগ্য হলেও সুযোগ মেলেনা বন্ধুদের নিয়ে মন খোলে একটু আড্ডা দেওয়ার একটু ফিরনি সেমাই খাওয়ার।কারণ নামাজ শেষ করেই ছুটতে হয় কাজের উদ্দেশ্যে কিংবা ক্লাসের উদ্দেশ্যে।এখানে স্বদেশের মত কোন খোলামেলা ঈদগাহ নেই একটি চার দেয়াল বিশিষ্ট বাড়িকে মসজিদ হিসেবে নিয়ে তাতেই আদায় করা হয়ে থাকে ঈদের নামাজ।এত ত্যাগ স্বিকার করেও প্রবাসের মাটিতে ভাল নেই প্রবাসীরা।
কাল ঈদ,প্রবাসে এটি আমার তৃতীয় ঈদ।এই ঈদটা একেবারেই অন্যরকম দেশের বাইরে প্রিয় কিছু মানুষদের সাথে,তবে অনেক প্রিয় মানুষদের থেকে অনেক অনেক দূরে,এতটাই দূরে যে দিনরাত্রির হিসেব মেলে না।
ঈদ মানেই আনন্দ,ঈদ মানেই খুশি।প্রতিবছর এই ঈদকে ঘিরে সবার থাকে অনেক পরিকল্পনা,থাকে অনেক আয়োজন।ঈদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কেনা,ঈদের দিন নতুন পাঞ্জাবি গায়ে ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা,বন্ধু-বান্ধব ও আত্বীয় স্বজনদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা,বাড়ীতে এবং মামার বাড়ীতে বড়দরকে ঈদ সালাম করা ও কার কার কাছ থেকে ঈদের সালামি নেওয়া,রান্না করা সুস্বাদু খাবার খাওয়া,বিকেলে বন্ধুদের সাথে ইচ্ছে স্বাধীন কোন গন্তব্যে ঘুড়ে বেড়ানো এবং রাতে টিভি সেটের সামনে বসে ঈদের জমজমাট অনুষ্ঠান উপভোগ করা ইত্যাদি।এ সবই ছিল আমরও ঈদের দিনের একটি নিয়মিত রুটিন।
কিন্তু যখন জীবন আর জীবিকার প্রয়োজনে ভীন দেশে পাড়ি জমিয়েছি তখন থেকে ঈদ কাটে অনেকটা সাদামাটাভাবেই।দেশের ঐ বর্নিল ঈদের ছবি এখানে স্বপ্নেও ধরা দেয় না।এখানে ঈদ আসে নীরবে,কোন আগমনী বার্তা ছাড়াই।ঈদের দিন কাটে অন্যান্য সাধারন দিনের মতই।থাকে না বিশেষ কোন পরিকল্পনা।
দেশের ঈদ শুরু হত ঈদের আগের রাতে নজরুলের সেই বিখ্যাত গান দিয়ে---
রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
আপনাকে তুই বিলিয়ে দে , শোন আসমানী তাগিদ।
তোরা সোনা-দানা, বালাখানা সব রহে ইল্লিল্লাহ
দে যাকাত , মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ
ও মন রমযানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।সকালে উঠেই নামাযে যাওয়ার প্রস্তুতি... সবচেয়ে মজার পর্বটা মনে হয় ছিল এইটাই - দল বেঁধে নামায পড়তে যাওয়া।আমাদের গ্রাম থেকে আমরা মোটামুটি ১২/১৩ জনের একটা বিশাল দল নামায পড়তে এক সাথে যেথাম।প্রায়ই দেখা যেত অনেকেই দেরি করে নামায পড়তে আসত,তাদের নিয়ে হুলস্থুল পড়ে যেত,খুব সম্ভবত সব বারের মত এবারো হবে অনেকের।আব্বা বরাবরের মত এবারও টেনশন করবে সবার জন্য ,মনে হয় এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না খুব দ্রুত তৈরি হয়ে নামায পড়তে আগেই চলে যাবে।
প্রবাসে নিজের কাটানো দুটি ঈদের কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলি ---- এর আগের দুটি ঈদই আমি করেছি লন্ডনে,ঈদের দিনে যে আমি ভয়াবহ আনন্দ করিছি কিংবা বন্ধুদের সাথে ঘুরেছি এমনটি হয়নি।আমার এম্নিতে ঘোরাঘুরি করতে এখন আর ভাল লাগে না, দুটি ঈদে আমি চরম আনন্দের সাথে ঘুমিয়েছি।তাই ঘটনাবহুল জীবনের দুটি ঈদ নির্ঝঞ্ঝাট,কোলাহলমুখর গতিময়তায় গতিহীন কিছু মুহূর্ত ছিল আর কিছু নয়।এখানে প্রথম পার্থক্য ছিল ঈদের নামায পড়তে যেতে হবে মসজিদে।যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে ডেকে দেওয়ার জন্য সাথের এলার্ম ঘড়িটাই ভরসা।একদল অপরিচিত মুখের ভিড় আর স্থানীয় বাংলাদেশী পরিবারগুলোর আতিথেয়তায় খুঁজে ফিরেছি প্রবাস ঈদের আনন্দ।একেবারে খারাপ না...তবু তোমায় মিস করেছি আমার বাড়ীর সবাইকে, আমার বাংলাদেশকে।তখন আমার মনে হয়েছিল যে,আমিই পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষ!ঈদের দিনে টেলিফোনে পরিবারের সবার সাথে কথা বলে আর বন্ধুদের সাথে ইন্টানেটে চ্যাট করেই ঈদের আনন্দটা কিছুটা হয়তো পেয়েছিলাম।
আমার মতই ঈদ কাটে অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের।প্রবাস জীবনের নিঃস্বঙ্গতা আর বাস্তবতাকে সাথী করে এরা সবাই এগিয়ে যাচ্ছেন একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে।সবার চোখে-মুখে থাকে একটাই স্বপ্ন এ কষ্টের একদিন অবসান হবেই”।তাই ঈদকে নিয়ে কার নেই কোন আলাদা ভাবনা,নেই কোন উল্লাস।
তবে আমরা এবারের ঈদ অনেকেটা আনন্দের সাথেই কাটাবে যেহেতু স্পেনে আমাদের পরিবারের সাথে আছি।যারা পরিবার নিয়ে প্রবাসে আছেন তাদের ঈদ অনেকটাই আনন্দের হয়।তবুও ত দেশের ছোয়া পাওয়া যায়না।দেশী ঈদের স্বাদই ত অন্যরকম তাই দেশের সবাইকে অনেক মিস করবো।
প্রবাসী ও দেশের সবাইকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবরক।দোয়া করি আপনাদের ঈদ বয়ে আসুক অনাবিল শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ভাল কাজের প্রেরণা হয়ে।





Dhaka Time
0 মন্তব্য:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন